মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

একফালি রোদ
ত নি মা হাজ রা

আমরা অনেক অনুভবে বাঁচি
টুকরো টুকরো দু:খ এবং সুখ,
অনুভূতির অব্যক্ত খামে
দমবন্ধ জমাট বাঁধা বুক।

অনেক উক্তি স্বীকার করার দায়
লুকিয়ে থাকে না বলা যন্ত্রণায়।

দু:খে সুখে খুঁজি শক্ত কাঁধ,
যার হাতেতে রাখলে পরে হাত
নি:শব্দে যায় ভেঙে যায়
শব্দছকের বাঁধ।@ত নি মা।

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

মাতৃভাষা

মেয়ে দিছছে সাগরপাড়ী
নতুন সংসার,
নিজেও দামী সঙ্গে স্বামী
 দারুণ কেরিয়ার।
সামনে তাদের খোলা আকাশ
 অচেনা পৃথিবী,
অনেক ভালো, অনেক মন্দ
নে বেছে কি নিবি।
জীবন জোয়ার ভাসাবে তোর
ছোট্ট ডিঙা খানি,
সবার মাঝে করবি যে স্থান
এ আমি ঠিক জানি।
তোর বুকের মাঝে ভরা
আমার দেশজ সংস্কার,
গর্বভরে সর্বদা তুই
পালন করিস তার।
আর মাতৃভাষা গায়ত্রী জপ
মোটেও ভুলিস না,
সে মন্ত্রে দীক্ষা দেওয়া
মায়েরই তো কাজ,
সন্তান দের অবশ্যই
বাংলা শেখাস মা।@ত নি মা।

বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

তুমি ছুঁয়ে আছো বলে

তুমি ছুঁয়ে আছো বলে
রামধনু আঁকা দূর আকাশের নীলে
তুমি ছুঁয়ে আছো বলে
ভীষণ দু:খে কাঁদতে যে গেছি ভুলে।
তুমি ছুঁয়ে আছো বলে
এক উঠোন ঘাসে এক রাশ রোদ্দুর।
তুমি ছুঁয়ে আছো বলে
শিবকুমার আজো বাজাছছে সন্তুর।
জানিনা তোমায় ভালবাসি কিনা
শুধু জানি রাখি কাছে
তোমার মুক্তধারার পরশে
যদি ময়ুরী আবার নাচে। @ত নি মা।

বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

বিধবা

বিধবা শব্দের সঠিক মানেটা কি?
বোধহয় একফালি মরুভূমি,
যার আকাশে বহুদিন আগে
মেঘ হয়ে ছিলে তুমি।

মাটিরা সকল ক্ষয়েছে এখন
সারাদিন ধূলিঝড়
ঘন কুয়াশায় ঢেকেছে আকাশ
মেঘেরা হয়েছে পর।

এ যেন এক কঠিন সাজার পণ
ঝরণাকে বলো ঝরে পড়া তোর মানা
পাখীকে শেখাও বাসায় বসে থাক,
দূর আকাশে মেলিস না তোর ডানা।

বিধবা মানে একফালি পোড়ো মাঠ
সবুজ হবার লাইসেন্স নেই যার,
নেই অধিকার স্বপ্নের বীজ বোনে।
অথচ সূর্য,শিশির অথবা বারি
ঝরে পড়ে অবিরত
কোকিল জ্বালায় অবেলার টেলিফোনে।

আসলে বিধবা মানে সাবধানে পা ফেলা
পাছে কোন দাগ লাগে সাদা গায়,
এখন তো আর সাথে নেই সেই সুপারম্যান
পৃথিবীর সাথে একাই যে লড়ে যায়।@ত নি মা।

মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

কেমন চশমা পরে জীবন কে দেখছ তুমি
জীবন তোমার কাছে ঠিক তেমনি,
কখন খরনদী, কখন ভাসা মেঘ,
ডোবাবে  কি ভাসাবে
ঠিক জানা নেই।
মা

আমাতে জাগাতে  প্রাণের আলো তুমি বাজী
রেখেছিলে প্রাণ,
তোমার রক্ত হ লো যে স্তন্য ক রতে জীবন দান।

প্রথম চলা র পদক্ষেপে হাঁটি হাঁটি পা পা
আগ লে দুহাতে সব বাধা হতে,
তুমি ই তো ছিলে মা।

তোমার প্রেরণা তোমার ম ন ন
আমাকে ক রেছে আমি,
তাই জগতের কোনো কিছু ন য়
তোমার চে য়ে দামী।
নারী একটি নদীর মতো
সেচন করাই কাজ,
স্নান করে সব শুদ্ধ হয়ে
কলুষতার দেবে অপবাদ।

নারী একটি নদীর নাম
খাড়াই চড়াই গতি,
সর্বজনের সুখসীজনে
সজল অবস্থিতি।

নারী একটি নদীর নাম
বীজকে করে গাছ,
প্রেমের সুতোয় নকশা তুলে
সাজাচ্ছে  স মাজ।

Copyright@ Tanima Hazra.
ভালো বাসা মানে কি জানি না,
শুধু তোমার ভালো তে থাকি,
তোমার স ক ল বেদনার ধারা
ক রতলে ধ রে রাখি।

ম নের ভিতর এক কোণেতে
আমা য় তুলে  রেখো,
হাতখানি এই বাড়িয়ে  দিলাম
ইছছে হ লে ডেকো।
ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুর, ধুলোবালি কাদা
রোদেজলে ভিজে খেলা,
অল্পপাওয়াতেই অন ন্ত আন ন্দে
মাতানো দিনের বেলা।

ছিটের জামা , বাটার জুতো
মেলার চুড়ি বা মালা
সারারাত জেগে শাল মুড়ি দিয়ে
শোনা সে যাত্রা পালা।

না ছিল গেজেট, না ছিল  বাজেট
মামুলি   খুশীর মেলা,
সবুজ কোনো কিশোরের কাছে
ভুলে ম ন  দিয়ে ফেলা।

সে প্রেমের দায় সাম লাতে প্রাণ
চলে যেতে চায় প্রায়,
সেদিন বুঝিনি কিশোরীর প্রেম
মুকুলেই ঝ রে যায়।

তবু রত্নখচিত  মধুর স্মৃতিতে
ভ রে আছে  সেই  ডালা,
কতদিন আগে ফেলে আসা
সেই  আমাদের  ছোটবেলা।
এখন পাতাঝরার দিন
পুরোনো পাতারা সব ঝরে যায়
বুকে নিয়ে ধূসর বিবর্ণতা।
"এখনি যেয়ো না তো
থাকো না আর কিছুদিন "
করুণকন্ঠে ব লে
অশ্রুমতী কাতর বিটপী-
হাত ধরে কাঁদে বারবার,
হলুদ পাতাটি তবু নিরুপায়
হয়তো তাহারো মন
পড়ে থাকে এই দুনিয়ায়,
তবু তাকে চলে যেতে হ য়
এ যেন কালের কঠোর নির্দেশ।
অঙ্গ হতে খসে পড়ে
গত বসন্তের পত্রিকাদল বিগত বিরহরাজি।
ঋজুদেহে নতনেত্রে স্তব্ধ হয়ে থাকে
সর্বহারা কাঙালিনী।
কিসের  প্রতীক্ষায়??
@ ত নি মা হা জ রা।
ভিন্ন স্বাদের গ ল্প
তনিমা হাজরা

.......তারপর সেইসব
কিশোরের দল আপন স্বভাববশে উদ্দাম উচ্ছল
একদিন যারা ভীরু লজ্জায় মেলতে পারেনি মন
তাই তার প্রাণপ্রিয় কিশোরীটি এ জন্মের মতন
পর হয়ে গেছে তার।
অন্যের ঘরনী হয়ে সে এখন সাজায় সংসার
জমে থাকে জাগতিক যত দায়ভার,
তাদের দুজনার মাঝে।
           তার সাথে দেখা হলে আজকাল
পাপড়ি মেলে না আর শতদল।
পা আটকে যায় সংস্কারের কচুরিপানায়।
তাই আজ সে তো ভিন্ন রূপকথা-
মনের গহনে আজো পাশে বসে থাকে বনলতা।
কাঙাল
তনিমা হাজরা

একটি শিশু মাতৃহারা
সবাই ভাবে সৃষ্টিছাড়া
চতুর্দিকে সবার মাঝে
নিভৃত এক স্নেহ খোঁজে।
কার পড়েছে এ দূর্দায়
তার জন্য সময় কাটায়
তবু শিশু বড়ই পাগল
খোঁজে কেবল মায়ের আঁচল।

কিশোরবেলায় বিদ্রোহী হয়
হয়তো তখন সেটাই মানায়
কেউ দেখেনা মনের কোণে
মায়ের পদ ধ্বনি শোনে।

আশা করে প্রিয়ার হাত
মুছে দেবে বিষাদ রাত,
তানপুরাতে তার ছিঁড়ে যায়
মা বলে না আয় খোকা আয়।

সবাই তাকে পাগল ভাবে
কেউ বা ভাবে প্রবল প্রেমিক,
আসলে সে কোনটাই ন য়
বুকের  ভিতর ছোট্ট শিশু,
আঁকড়াতে চায় শেষ স ম্বল-
হারানো সেই মায়ের আঁচল।
একটা প্রাণের স্পন্দন
একটু আশ্বাসের বাণী
কিছু অব্যক্ত কথা
কিছু না বলা কাহিনী
একটা কোকিলের ডাক
কোনো দোয়েলের শিস
কত জীবনের কলরব
হাজার স্বপ্নের হদিশ
কত না কাটা রাত
কত অদেখা ভোর
শত জীবনে আমার
গচ্ছিত প্রেম তোর।
@ত নি মা হা জ রা।
আকাশের শূণ্যে ভেসে যাও মন
এইখানে ছঁুয়ে যায় নিবিড় নির্জন।
যা কিছু হারিয়ে গেছে
এইখানে ভেসে আছে
মেঘেদের অবতলে রোদ্দুর মেখে।
মাটির পৃথিবী থেকে
মলিনতা ফেলে রেখে
যারা আজ পাড়ী দিল আকাশের দেশ
পৃথিবীর আলোছায়া
সহস্র জন্মের মায়া
দিকচক্রবালে আঁকে মুছে যাওয়া
স্বপ্নের রেশ।
দীপের আলোকমালা
তারাদের নিয়ে জ্বালা
তার সাথে চিরকাল
শুভ দীপাবলী।।।
@ত নি মা হা জ রা।
একাকী আবেশে
আমার প্রিয়বান্ধবী অতীত
হাতখানি ধরে পাশে এসে
বসে চুপিচুপি।
তার সাথে কথা হয় কতো
চেনামুখ, চেনাসুখ
চেনাবেদনার পাকদণ্ডী পথ।
বলি কত কি রেখেছিস ভরে
তোর মুখবন্ধ ছোট্ট বটুয়ায়?
চোখটিপে বলে সে আমায়
পাগলী এই তো তোর জীবন
তোর চাওয়া পাওয়া ভালোলাগা
হারানোর সমস্ত হিসেবনিকেশ।
@ত নিমা হাজ রা।
পনেরই

ঊনসত্তরী বৃদ্ধা স্বাধীনতা
শ্যাওলা জমেছে তোর তোবড়ানো গালে
বকেয়া কর্ম শিকেয় রয়েছে রাখা
আম্ লাতন্ত্রের গদাই লস্করী চালে।
বহুযাতনায় বয়েছিলি অই দুই শত বৎসর
আশ্বাসে তুই বেঁধেছিলি দুখী বুক
ছেলেরা কপাল ফেরাবে অত:পর।
সোনার ছেলেরা ফেলা গেলো জেলে ফঁাসে
অপগন্ডের উৎপাতে আজ দিন রাত
প্রাণের হাপর ফাটে প্রতি দীর্ঘ শ্বাসে
এখনো অভাগী বাকী আছে ক ত দেখা
আগামী দিনের অদৃষ্ট নিয়তিলেখা।

Copyright@ Poems by Tanima Hazra
সেদিন দুজনে

শুভদৃষ্টি মালাবদল
লক্ষীর পট যঁাতাকল
সপ্তপদী অশ্রুনদী
গঁাটছড়া বঁাধাপড়া
ঘুমেরঘোর নতুন ভোর
পাখীর গান সুর্য স্নান
হাতে হাত সুপ্রভাত
মধুচঁাদ প্রেমের ফঁাদ
অলীক সুখ হাসিমুখ
বংশ রক্ষা সংযমশিক্ষা
লজ্জাশরম সাতটিজনম
কঁাটার পথ কঠিন শপথ
বঁাচতে থাকা আল্লা রাখা
বাজছে ত্রিতাল স ন্ধেসকাল
জীবন কাহিনী সঞ্চয়ে নমিনি
গঁাটের ব্যথা তত্ত্বকথা
ভঁাটার টান ফেরার গান।
@ত নিমা হাজ রা
ছোট বোন

মা যখন তোকে নিয়ে এল ঘরে
পরম বিস্ময়ে,
সারাদিন শুধু দেখতাম তোকেই
কেবল চেয়ে চেয়ে।
ছোট ছোট হাত ছোট ছোট পা
বুকের কাছে কি যেন ওঠানামা
অনেক ওজর আপত্তিতে কোলে
পাবার মঞ্জুরি।
একটুও তো হয়নি আমার রাগ
বসালি এসে স্নেহতে আমার ভাগ।
আজকে ব লি শোন
আমার ছোট্ট বোন
কোঁকড়ানো চুল গাল তুলতুল
তুই যে ছিলি আমার পাওয়া
প্রথম জ্যান্তপুতুল।

Copyright@ Poems by Tanima Hazra
অস্তাচলগামী

হঠাত কখন পথের বাঁকে
হারিয়ে গেলো সেসব দিন
কবে যেন সঙ্গী হোলো
বিটাব্লকার, এটিভ্যান বা আইসপটিন।

দুই দিকেতে দুটি বেণী স্কাট'ব্লাউজে
এইতো সেদিন
শীলুর সাথে স্কুলকলেজে, ঝাল মুড়ি
আর গোপন চিঠি এই তো সেদিন।

হঠাত যেন কবে থেকে মাথার চুলে
রূপোর পোঁচ
হঠাত যেন কবে থেকে হাট'স্পেসালিস্ট
ছানির খোঁজ।

হঠাত যেন কবে থেকে আশেপাশের সোমা রমা
দিদি ছেড়ে সসম্মানে
ডাকতে লাগলো ফুল মাসিমা।

কবে যেন কিসের ছুতোয়
খাট বিছানা ভিন্ন হলো
তা বলে কি এতদিনের
মনের বাঁধন ছিন্ন হলো?

এখনো তো বুকের ভিতর ঘুমিয়ে আছে
প্রথম ছোঁয়ার প্রথম ভোর
এখনো তো বাঁশী বাজায়
নীল যমুনায় নন্দকিশোর।
@ত নি মা হা জ রা।
শনশনে হাওয়া কেঁদে ফেরে তটে
বেদনায় ভাসে জল;
নাবিকের ছেলে ভুবনজয়ী
আপনার ঘ রে চল।
করমের পিছে ছুটেছ কেবল
জীবনের ফেরিওয়ালা -
শত তরুনের বুকে খুলে দিলে
কচি স্বপ্নের ডালা।
আকাশ তোমায় ডাকছে কালাম
দেশ যে তোমাতে ঋণী,
স্বপ্নালু নব মুকুলের মাঝে
রয়ে যাবে চিরদিনই।
------ত নিমা হাজ রা।
মা
মেয়েটি বাচ্চা সামলেছে বরাবর
প্রথমে মায়ের, তারপর বউদির এমনকি ছোট বোনেরও আর এখন নিয়েছে আয়ার কাজ।
মনের গহনকোণে তার বড় সাধ
এক হাসিমুখ শিশু যা তার একান্ত নিজের
রক্তমাংস -সাধ -স্বপ্ন দিয়ে গড়া।
কিন্তু কে তাকে দেবে এই উপহার
এই ক্ষয়াটে চেহারায় আর বর জোটে কই।
ব র না জুটুক ব ব'রের তো অভাব নেই।
একদিন রাতে কাজবাড়ি থেকে ফেরার পথে
অন্ধকার মাঠে ধষি'তা হ লো সে।
হায় অবশেষে সে এল তার শ রীরে
ছিঁড়ে যাওয়া সেতারের তার বেয়ে।
দুচোখে জল নিয়ে বসে আছে সেই মেয়ে
এখন কি ক রি মাণিক আমি তোকে নিয়ে
জড়িয়ে ধ রবো বুকে
নাকি ফেরাবো তোকে
সমাজের জুজুদের ভয় পেয়ে।
@তনিমা হাজ রা
হয়তো আমি কাদম্বরী বিষের নেশায় নীল
জীবন এখন গহন খাতে মরণ অনাবিল।
হয়তো আমি চাতক পাখী
খুঁজেই ফিরি জল
তোমার এক টু পাশে থাকা
এইটুকু স ম্বল।
যখন তুমি ডেকেছিলে
হ য়নি দেওয়া সাড়া
সব ই আমার পূর্ণ তবু
আমি সব'হারা।

Copyright@ Poems by Tanima Hazra
বালিতে চঞ্চু দিয়ে চেটে নিয়েছিলো
সে আগ্রাসী লবণকণা-
উন্মত্ত যুবকেরা তখন তার শরীরে উন্মাদ।
কি আছে শরীরে পুরুষ
ছিন্নভিন্ন সাময়িক কামে,
কেন সেই জলপরী বিকোয় বালুতটে
অন্যায্য নূন্যতম দামে,
কেন তার নিস্পাপ দেহ জ্বলেপুড়ে
যায় লবণাক্ত রোদে-
ঈশ্বরপ্রেরিত সব কটি নারী
চিরদিন আশ্বাসের অরঘ্যথালা হাতে
কেন যজ্ঞ পন্ড হয় অঞ্জলির আগে?
তোমাকে দিতে পারি অমৃতের আস্বাদ
দেহ ছেড়ে ম ন চাও যদি
অনেক ঝড়ের রাতে এবুকে আগলে রাখি
পার করে নিয়ে যাই উত্তাল সাগর
দুহাতে উজানভাটা ঠেলে।
শুধু দেহ ছেড়ে মন চাও যদি
দেহ ছেড়ে চাও যদি মন
সমস্ত অধিকার দিতে
রাজার মুকুট দিতে
ভালবেসে বুকে নিতে
বলো কতক্ষন
কতক্ষন?
@ত নি মা হা জ রা।
আছি
তনিমা হাজরা

এইতো আছি কাছাকাছি
বুকের মাঝে ঘর-
কান্নাহাসির বাণভাসিতে
জড়িয়ে পরস্পর।
আমি কিন্তু খুবই সাধারণ
আমি কি সত্যিই
তোমার প্রেরণা হতে পারি?
ভাবতে অবাক লাগে।
আমাকে তো কেউ কোন দিন
বেশি কিছু ভাবেনি কখনো
চাল-ডাল-তেল-নুনের সংসারের বাইরে।
কখন কোন কাজে ভুল করে ফেলি
এই ভয়ে তটস্থ থেকেছি সর্বদা।
কত ব্যঙ্গপরিহাস সয়ে গেছি কতদিন
বিবস্ত্রা হয়েছি লজ্জায় কৌরব শিবিরে-
কত অগ্নিপরীক্ষা শেষে কতবার বলেছি
"হে ধরণী দ্বিধা হও" জোড়হস্তে
ক্লান্ত জানকীর মতো।
জীবনের সাথে সকলের সাথে তাল মিলিয়ে চলা
সে ছিল চিরকাল একান্ত আমারি দায়।
কই কেউ তো বলেনি কখনো
ব্যাকুল আবেদনে-
ছেড়ো না আমায় আর কিছু নেই চাইবার
শুধু সাথে চলো।
@ত নি মা।
না: আর ফেরা যায় না তো
বহুদুর ভেসে গেছে তরী
এখানে ঢেউয়ের অবহেলা
জানেনা তীরের দরাদরি।

তাল কেটে যাওয়া ঝাঁপতাল
তারিমাঝে প্রসন্ন সকাল
শুয়ে আছে দূরে যাওয়া ঢেউ
এখানে আমাকে চেনে না কেউ।

আমি একা হালভাঙা মাঝি
সব ছেড়ে ডুব দিতে রাজী
বাতাসে ঘুরছে মনব্যথা
আজ শুধু লবণের কথকতা।

মুছে আসা অতীতের ভিড়ে
কারা সব শব নিয়ে যায়
স্বজন হারানো বেদনা
ঘুমিয়ে পড়ে নিতান্ত
এই পড়ন্ত অবেলায়।

এখানে নদীরা নিয়েছে বক্রগতি
ঘূর্ণিজলের চোরাস্রোতে
বালিফাঁদ-
খোলা আকাশের সুদূর পাখীর
ডানায় জমা হয়ে আছে
দুনিয়ার অবসাদ।

তবু দীপ বয়ে যেতে হবে
পৃথিবীর কাছে এটুকু অংগীকার
এজীবনে তুমি কতটা প্রাসঙ্গিক
যাপন জবাব দেবে তার।
@ ত নি মা।
তোর জন্য বৃষ্টিভেজা দুপুর রেখেছি
জানলা খুলে এমন গেছে অনেকদিন
আসবি বলে বসেই থেকেছি।

তোর জন্য রাখা ছিল অনেক কবিতা
কালবোশেখির প্রবল ঝড়ে
হারালো সবই তা।

এখন আমার মেঘলারাতে
ছন্দ নিখোঁজ তারার সাথে -

ভোরের শিশির বলেছিল
এসে নাকি ফিরে গেছিস,
এ কেমনধারা কার্যকারণ
আমি যে তোর জন্য কখন থেকে
শুক তারাকে আটকে রেখেছি।
@ত নি মা।
জলভরা মেঘ টাপুরটুপুর
মনের ঘরে ঝড় -
স্মৃতির মাতাল পাগল হাওয়ায়
ভাসছে তেপান্তর।
মেঘ গরজে বাজ চমকায়
সৃষ্টি রসাতল,
ছাড়িস না হাত ঝঞ্জানিপাত
আমার সাথে চল।
সত্যি বুঝি চলে যাবি
আমায় ছেড়ে একা,
জানতাম তুই ঠিক ডোবাবি
একগুঁয়ে একরোখা।
ফিরবি না আর সেকি কথা
যা চলে যা আড়ি-
ভুলে গেলি অগ্নিশপথ
এতই তাড়াতাড়ি?
ছাড়লাম হাত, অশ্রু জমাট
নিজেকে সংবরণ,
আজ আমি যেন নিজেই নিজের
এক ভিন্ন সংস্করণ,
শুধু কি আর চিতায়  গেলেই
হয় রে সহমরণ।।।।।
@ ত নি মা হা জ রা।
একটি নীরস গ ল্প
তনিমা হাজরা

একটি নারী পুরুষবিহীন
কি করে সে রাত্রিদিন-
কাহার সাথে কোথায় যায়
সাতজোড়া চোখ সুকৌশলে
সাতসতের জিজ্ঞাসায়।
তার হৃদয়ের গোপন ঘরে
অসতর্কতায় কে বাস করে?
কে হানা দেয় ভালোলাগায়?
সমাজ তাকে প্রশ্ন করে।
কি প্রয়োজন সমাজকে তার,
অশ্রুনদীর ঘোর সাগরে
ঘোর বিপাকে বসত যাহার।
তবু তাকে বাঁচতে হবে
মানতে হবে সব ভ্রুকুটি।
বাঁচবে না সে নিজের মতন।
একক নারী, একক জীবন
সংগ্রামী এক গল্পকথন।
তোমার দু:খ যত ছড়ানো ধূলিতে, কুড়িয়ে রাখছি আমার সঞ্চয়ের ঝুলিতে। করছি এক যাদুকরী মন্ত্রর নিরন্তর খোঁজ যদি কোনদিন ফিরিয়ে দিতে পারি নন্দিত আনন্দের বন্দনাগানে।@ তনিমা হাজরা।
কোথায় ঠিক কতদূরে আছো তুমি -
তোমার উপস্থিতি অক্ষর ব্রহ্ম
হয়ে ভাসে মননের অবকাশে।
শূণ্যতার ব্যাপ্তিতে দুটি সত্ত্বা
যেন আজ হাত ধরে পাশাপাশি বসে,
চেয়ে থাকে অপলকে দুজনের পানে,
খুঁজে চলে জীবনের গূঢ.তম মানে।
রাত্রি গভীর হয়,
ধীরেধীরে মিলে যায়
দুইখানি উন্মুখ হৃদয়।
কেন এই ফিরে ফিরে আসা
কেন এই ভেসে চলা
অব্যক্ত আনন্দলোকে শুরু হয় স্বতঃবিচরণ
এইখানে চিরকাল অনন্ত মিলন-
মুছে যায় ব্যাপ্ত চরাচর
পুড়ে যায় আমাদের নশ্বরজীবন। @ তনিমা।
কাল্পনিক

সে তোমার কে?
কেউ ন য় তো
শুধু একফোঁটা জল মরুসাহারায়।

সে তোমার কে?
কেউ ন য় তো
শুধু তার ডাক এলে পাখী গান গায়।

সে তোমার কে?
কেউ ন য় তো
শুধু সব বাধা ঠেলে এসে হাত ধরে ঘোরঝঞ্জায়।

সে তোমার কে?
কেউ ন য় তো
শুধু তার ছোঁয়া পেলে জাগে রাজকন্যে
আর তা না হলে ডোবে কালতন্দ্রায়।

সে তোমার কে?
কেউ ন য় তো
শুধু কাছে ডাকলে দ্রুত ছুটে আসে
ফেরালে করেনা তর্ক
মেনে ফিরে যায়।

এত প্রশ্ন কেন? কেন এত জবাবদিহি
কেউ নয়, কেউ নয়, কেউ নয়
বলছি তো সে আমার কেউ নয়।@ত নি মা।
এই পৃথিবীর হত্যাশালায় যত্নে ফোটাও ফুল
ভালবাসার গোপন বপন রাখো অব্যাহত।
মানবমানস এখনো যে গভীর মিলনব্যাকুল
হাত বুলিয়ে সারিয়ে তোল দুরারোগ্য ক্ষত।@ ত নি মা।
ওয়ার্থলেস

অনেক করেছি গেরস্থালী
ভাবছি এবার বাউন্ডুলে হব-
অনেক করেছি ঘরকন্না
এসোজন বসোজন লোক লৌকিকতা
সহ্য ও অসহ্যের অনেক চাপানউতোর।
তোর সাথে হাজারো জীবনের
অলিগলিপথ সুখে ও অসুখে।
খেলার নিয়মটা মানলে
কারো সাধ্য ছিল না যে তোকে
দেখায় রেড কার্ড-
ধুত্তুরি হেরো।
চিরকাল বড় হড়বড়ে তুই
বড় ক্রেজ তোর বিগ স্কোর করবার।
কান ধরে শিখিয়েছি কতবার
ধৈর্যের নিয়মাবলী
গ্রাহ্য করিস নি কোনদিনই।
এখন কি করে টানবো আমি
ম্যাচটাকে একা-
ওয়ার্থলেস দেখিস তোর জন্যে
শুধু তোর জন্যে জেতা ম্যাচটা বসে বসে হেরে যাবো।@ ত নি মা।
বন্ধু

আমার কাছে তুমি মানে
বাড়িয়ে দেওয়া হাত,
কালবোশেখির ভীষণ ঝড়ে
একটুখানি ছাত।

আমার কাছে তুমি মানে
একটু মরুদ্যান,
খাদের থেকে উঠতে চাওয়ার
প্রচেষ্টা আপ্রাণ। @ ত নি মা।
বহুদিন পর হাতছানি দেয়
পুরোনো শহর পুরোনো মুখ
মেঘ হয়ে ভাসে মন আকাশে
পুরোনো দু:খ, পুরোনো সুখ।
বহুযুগ আগে ফেলে আসা দিন
ধূলো ঝেড়ে দেখি এখনো রঙিন
হারানো রিবন, হারানো পেন-
জীবনের খামে ক ত লেনদেন
যোগ ও বিয়োগে বসে কষে রাখা
হিসেবের ছেলেখেলা।
দেখা হ য়ে গেলে প্রিয়বান্ধবী
এখনো কি তুই এমনে বাজাবি
ফেলা সে দিনের তানপুরা তুলে
পুরোনো সে চেনা সুর।
নাকি দুই নদী গেছে দুই পথে
কেউ সমতলে, কেউ পরবতে,
কারো ধীরগতি কারো খরস্রোত
চিনে ওঠা আজ ভার।
তবু মনে রেখো, উঁকি দিয়ে দেখো
স্মৃতির অতলে আজো রয়ে গেছে
বড় চেনামুখ তার।
@ত নি মা হা জ রা।
রামায়ণ

নিজের হাতেই জ্বালিয়ে নিজের চিতা
লক্ষনের এই গন্ডি মাঝে নির্বাক রয় সীতা।
কিসের আশায় তুমি ওগো কন্যে
হেলায় সকল হারিয়ে দিয়ে
গেছিলে অরণ্যে-
এখনো তাও অগ্নিপ্রমাণ চাই?
রাজার পাশে রানীর বেশে আর হবে না ঠাঁই।
যাও গো এবার বনবাসে যাও
গুঁড়িয়ে যাওয়া স্বপ্ন গুলো ধূলোতে মেলাও।
মাটির মেয়ে মাটিই যে তোর দেশ।
দুর হয়ে যা সমুখ থেকে
এ যে গো তোর রাজারই নির্দেশ। @ত নি মা।
হতচ্ছাড়া

---হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে বৈশাখ।
---ছাড় তো তোর ওই আদিখ্যেতা, মাথাটা আজ
ধরেছে খুব, দে টিপে দে, তোর কোলে একটু শুই।
---দেব না যা বড্ড নিরেট তুই।এতদিনের ঘরকন্নে একটাদিনও আবেগভরে বললি না তো ভালবাসার কথা।
--ছাড় তো ওসব ন্যাকাপনা আমার ধাতে নেই।ভালো মাটন পেলাম, নিয়ে এলাম। কষিয়ে আজ বিরিয়ানিটা রাঁধ, কারো হাতেই হয়না জানিস ঠিক তোর মতো স্বাদ।
----সবাই কেমন ঘুরতে যাচ্ছে আজ এদিকওদিক।
----পারবো না আজ জানিসই তো সপ্তাহটা দারুণ গেছে হেকটিক।কালকে আবার নটায় ফ্লাইট ফিরতে তো সাতদিন। আজ দুপুরবেলা খেয়েদেয়ে লুডো খেলব দুজন।শোন পারলে বাঁধনিকাজের ঘাগরাটা আজ পর।
----ভাল্লাগেনা বড্ড খাটাস তুই, খালি নিজের ইছছেমতো চলিস।
---আমি কখন তোকে বাসব ভালো তুই বলবার কে,
মনময়ুরী আমার কাছে প্রতিটা দিনই ভ্যালেন্টাইনস ডে।@ত নি মা।
আত্মজ

জঠরে হলো না যখন স্থান সঙ্কুলান
নেমে এলি ঘুম বিছানায়-
আমার বুকের থেকে ঝরে পড়া স্নেহ
ধীরেধীরে পলে পলে গড়ে তোর দেহ।
চোখ ঘোরে, সে আমাকেই খোঁজে জানি,
ঘাড় শক্ত হ য়, শক্ত করে নিতে চায়
ভিত এই পৃথিবীর মাটিতে।
শুয়ে ছিলি, উঠে বসলি,
এগোতে লাগলি কষ্টসাধ্য হামায়।

সেই তোর শুরু আমার জগত থেকে
দূরে চলে যাবার।
কিন্ত তখনও তুই গুল্মলতা
বারে বারে ফিরে ফিরে
জড়িয়ে বাঁচিস আমাকেই।

এবার হাঁটার পালা, তারপর ছোটা
আমি চাই আমাকে জড়িয়ে নয়
একাই তুই জিতে আয়
পৃথিবীটা গোটা।

তখন আমার এই খাট, এই কোল ছেড়ে
কখন তুই পাশের ঘরে
নিজস্ব বিছানায়, নিজস্ব চেতনায়,
নিজস্ব ভাবনায় এক একক মানুষ।

আমার হাতের মুঠো থেকে কখন
অজান্তে ঝরে পড়ে গেছে
তোর শৈশব, তোর বাল্যকাল।

এবার আমার আঙিনা ছেড়ে তোকে
পাড়ি দিতে হ বে নিজের দুনিয়ায়।
কত বর্ষার কাগজের ভেলা, কত
শরতের শিউলিমাতানো সাঁঝ,
ঝিরঝিরে হাওয়াভরা বৈশাখী ভোর
স্তব্ধ হয়ে রয়ে যাবে
আমাদের দুজনার মাঝে।

দূরে নয়, দূরে নয় বুকের ভিতর
সমস্ত বালাই থেকে মা ঘিরে আছে তোর।
তাই আজ সমগ্রপৃথিবী
যেন আমার মাতৃজঠর।@ত নি মা।
প্রাণভোমরা
তনিমা হাজরা

আমরা কবিতাতে বাঁচি
কবিতাতে কাঁদি
কবিতায় গাই গান
কবিতার ভোরে জেগে উঠে করি
প্রথম সুর্য স্নান।

কবিতার মেঘে ভেসে যাই দূরে
ঘর বেঁধে থাকি কবিতার সুরে
কবিতা আমার চাঁদনী রাতের
বাঁধভাঙ্গা ভালোলাগা।

কবিতা আমার কৈশোর প্রেম
প্রথম ছোঁয়ার ভোর
দূর যমুনায় নিষিদ্ধ বাঁশী
হাত ধরে চলা তোর।

কবিতার সাথে সপ্তপদী
কবিতার সাথে বিনিময় হৃদি
নিত্যদিনের খুনসুটি ভরা
নিয়মিত সংসার।

কবিতা আমার মাতৃজঠরে
নবপ্রাণ উত্তাপ,
কবিতার কোলে মাথা রেখে
ভুলি জীবনের সন্তাপ।

কবিতা আমার প্রাণের কথাটি
অকপটে বলে ফেলা,
বড়ো দূর্দিনে ঘোর ঝঞ্জায়
মাথা উঁচু করে চলা।